তাজা খবর
বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদন রাবির সঙ্গে ড. মইন উদ্দিনের চুক্তি স্বাক্ষর

বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদন রাবির সঙ্গে ড. মইন উদ্দিনের চুক্তি স্বাক্ষর

প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদন নিয়ে রাবির প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. একরামুল হামিদ ও বিজ্ঞানী ড. মইন উদ্দিন সরকারের মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জিএম শফিউর রহমান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বিষয়ে ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গ্রিন এনভায়রনমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের উদ্যোগে ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. একরামুল হামিদের সভাপতিত্বে ও ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. জিএম শফিউর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক এয়ার কমোডর আব্দুস সামাদ। সেমিনার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদন প্রযুক্তির উদ্ভাবক বিজ্ঞানী ড. মইন উদ্দিন সরকার। এছাড়াও ড. আনজুমান সেলী উপস্থিত ছিলেন।

ড. মইন উদ্দিন বলেন, ‘সারা দুনিয়ায় দিনে দিনে বাড়ছে প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার, সেই সঙ্গে আমাদের চার পাশে জমছে প্লাস্টিক বর্জ্য।যা হয়ে ওঠেছে আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।প্লাস্টিক পচনশীল নয় বিধায় মাটি হারাচ্ছে তার উর্বর শক্তি। খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে, নদী তার নাব্যতা হারাচ্ছে। ড্রেনের পয়ঃনিষ্কাষন ব্যবস্থা রোধ হচ্ছে ফলে মশামাছির প্রকোপ বেড়েই যাচ্ছে এবং বৃষ্টিহলে শহরে নৌকা চালাতে হচ্ছে।প্লাস্টিক ও পলিথিন-এর প্রাদুর্ভাবে বন ও জলজজীব বৈচিত্র্য ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথ প্রক্রিয়াজাত করা মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধিতে কাজে লাগানো সম্ভব। ইতিমধ্যে এই বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল, এলপিজি গ্যাস ও জেট ফুয়েল তৈরি করতে আমেরিকাতে একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করেছি। এর মাধ্যমে প্রতি টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য থেকে ১ হাজার ৩০০ লিটার জ্বালানি তেল, ১০ সিলিন্ডার এলপিজি গ্যাস ও ২৩ লিটার জেট ফুয়েল তৈরি হচ্ছে। ওয়াস্ট টেকনোলজিস এলএলসি কোম্পানি নামে আমেরিকাতে এই প্ল্যান্টের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। আমি চাই বাংলাদেশকে এই প্লাস্টিক বর্জ্য রক্ষা করতে।

তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এক লিটার ডিজেল উৎপাদন করতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাত্র ২৫ টাকা খরচ হবে। এছাড়া ডিজেলের পাশাপাশি এলপিজি গ্যাস ও জেট ফুয়েল উৎপাদন হবে, যা খুবই লাভজনক। সবচেয়ে বড় কথা হলো দেশকে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে মুক্তি দান। আর এটাই আমার মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ‘নিজের গবেষণার সাফল্যেকে বাস্তব রুপ দিতে আমি নিজেই আমেরিকায় প্লান্ট গড়ে তুলেছি। পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলছি। উৎপাদন কোম্পানির নাম Waste technologies LLC, (আমেরিকা-যুক্তরাষ্ট্র) কোম্পানি প্লাস্টিকের বর্জ্য থেকে তেল তৈরির কাজসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার। বর্তমানে কোম্পানিটি বাংলাদেশে ও এর কমের প্লান্ট করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এই কেন্দ্র স্থাপন হলে একাধারে যেমন দেশকে ক্ষতি কারক প্লাস্টিকের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে, তেমনি দেশের স্বল্প শিক্ষিত থেকে শুরু করে শিক্ষিত যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।দেশ অর্জন করতে পারবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

তিনি আরও বলেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সক্ষম হবে।বাংলাদেশকে এশিয়ার বর্জ্য প্লাস্টিক পূনঃপ্রক্রিয়াজাত করণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দেশের আলাদা একটি জায়গা করতে সক্ষম হবে।

এ সময় অধ্যাপক জিএম শফিউর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালনায় ডিজেল ও এলপিজি গ্যাস তৈরি করা হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়া রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে পরিচালিত প্লান্টের প্রযুক্তিগত সহায়তা করবে ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিজ্ঞানী মইন উদ্দিন সরকারের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে এমএসসি পাসের পর যুক্তরাজ্য যান। পরে লন্ডনের ম্যানচেস্টার ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে পিএইচডি করেন। বিগত ২৮ বছর ধরে বিভিন্ন দেশে গবেষণার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে বিজ্ঞানী মইন এবং তার স্ত্রী ড. আনজুমান সেলী প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ২০১০ সালে প্লাস্টিক তেল উৎপাদনের কৌশল উদ্ভাবন ও পেটেন্ট করেন। বর্তমানে ওয়াস্ট টেকনোলজিস এলএলসি কোম্পানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এই বিজ্ঞানী দম্পতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*